কিশোরগঞ্জে ১২ ঘণ্টার মধ্যে জোবায়েদ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার।
নাজমুল ইসলাম নাহিদ কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পরকীয়ার জেরে জোবায়েদ (২৬) নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামি মো. রানাকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কটিয়াদী সার্কেল)-এর তত্ত্বাবধানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. রানার স্ত্রী জেসমিন আক্তারের সঙ্গে রানার মামাতো ভাই জোবায়েদের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ প্রায় দুই মাস আগে বিষয়টি জানার পর রানা তার স্ত্রী ও জোবায়েদকে সতর্ক করলেও তারা সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন। এই বিরোধের জেরে রানা ও তার স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয় এবং স্ত্রী জেসমিন সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
ঈদুল আজহার দুই দিন আগে রানা জানতে পারেন যে, তার স্ত্রী জোবায়েদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখানে গিয়ে তিনি তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখার পর চরম ক্ষোভে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
যেভাবে সংঘটিত হয় হত্যাকাণ্ড:
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের পরদিন রানা ধারালো দা সংগ্রহ করেন। এরপর কৌশলে জোবায়েদকে পাকুন্দিয়া থানার শৈলজানী এলাকার পুরপুরা ব্রিজ সংলগ্ন নির্জন স্থানে ডেকে নেন। সেখানে জোবায়েদ পৌঁছালে রানা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা জোবায়েদকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। অবশেষে ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে হোসেনপুর থানার শাহেদল ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রাম থেকে প্রধান আসামি মো. রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে রানার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা পোশাকসহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ৩০ মে ২০২৬ তারিখে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা (নং-২২) দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের এই দ্রুত ও সফল অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। জেলা পুলিশ অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।